আল কুরআন -মুসলমানের জীবন বিধান


আল কুরআন -মুসলমানের জীবন বিধান
মমিনুল ইসলাম মোল্লা,
কুরআন মুসলমানদের পবিত্র গ্রন্থ আল কুরআন । কুরআন শব্দের পারিভাষিক অর্থ পঠিত, জমা করা। এর আলোচ্য বিষয় সরল-সঠিক পথ। এর উদ্দেশ্য মানুষকে হেদায়েত করা। হেরা গুহায় ৬১০ খৃষ্টাব্দের ৬ আগস্ট সর্ব প্রথম কুরআন নাযিল হয়। ২২ বছর ৫ মাস ১৪ দিন এর মধ্যে সমগ্র কুরআন অবতীর্ণ হয়। আমরা মুসলমান। আমাদের ধর্ম ইসলাম। ইসলামের পরিভাষাগত অর্থ এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর কাছে আত্মসপর্পণ করা। ইসলামী জ্ঞানের উৎস দুটি। প্রথমটি হচ্ছে কুরআন দ্বিতীয়টি হচ্ছে সহিহ হাদিস। কালিমার পরেই নামাযের স্থান। সহিহ -শুদ্ধভাবে নামায আদায় করতে হলে সঠিক উচ্চারনে কুরআন তিলাওয়াত করতে হবে। নামায ভঙ্গের ১৯টি শর্তের মধ্যে প্রথমটিই হচ্ছে অশুদ্ধ তিলাওয়াত। আল্লাহ বলেছেন- আপনার প্রতি নাযিলকৃত কুরআন পড়–ন। এবং নামায কায়েম করুন। ( আনকাবুত-৪৫) কুরআনের প্রথম নাযিলকৃত আয়াত “ পড় তোমার প্রভূর নামে। যিনি সৃষ্টি করেছেন ( আলাক-১) । তাই মুসলমানদেরকে অবশ্যই সৃষ্টিকর্তার নামে পড়তে হবেএবং তার নির্দেশিত পথে জীবন যাপন করতে হবে। কোরানের মূল ভাষা আরবি। তাই কোরানকে সম্পূর্ণভাবে বুঝতে হলে অরবি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে। প্রতিটি শব্দ, পারিভাষিক অর্থ, আভিধানিক ও ভাবগত অর্থ এবং অলংকার জানতে হলে আরবি ভাষায় জ্ঞান লাভ করতে হবে। তাই মুসলমানের জন্য কুরআন শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। যারা কষ্ট করে উঃ উঃ করে কুরান পড়ে তারাও নেকী লাভ করবেন। আমাদের দেশের বহু যুবক বিদেশে গিয়ে চাকুরির আশায় সে দেশের ভাষা শিখে। কিন্তু যে জ্ঞান চিরকালের জন্য প্রয়োজন তা অর্জনের জন্য আমরা কতটুকু চেষ্টা করেছি? অন্যান্য বিদেশী ভাষার চেয়ে কুরআন শেখা খুবই সহজ। আল্লাহ বলেন, আমি কোরানকে বুঝার জন্য সহজ করেছি। সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য। অতএব কোন উপদেশ গ্রহণকারী আছে কী ? ( আল কামার -১৭)বর্তমান ফেতনা ফাসাদযুক্ত সময়ে আমাদের জীবন কুরানকেন্দ্রিক হওয়া জরুরী। জ্ঞানার্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ। এ জ্ঞান বলতে ধর্মীয় জ্ঞনের প্রতিই নির্দেশ করা হয়েছে। । মুসলিম দেশসমুহে স্বল্প সময়ে কোরান শিক্ষার একটি সিস্টেম চালু রয়েছে। এ পদ্ধতিতে কুরান মুখস্ত করানো হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে সাধারণত কুরআনের অর্থ ও ব্যাখ্যা শিখানো হয় না। ফলে শিক্ষার্থীরা নিজেরাও কুরানের স্বাদ পায় না। অন্য কোন লোককেও সঠিকভাবে কুরআনের দাওয়াত দিতে পারে না।

       রাসুল  (সাঃ ) বলেছেন- যে ব্যক্তি কুরান শিক্ষা করে অতঃপর তা ভুলে যায , কেয়ামতের দিন সে অঙ্গহীনরুপে আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করবে। আমরা যদি শুধুমাত্র মসজিদেই আল্লআর নিয়ম অনুযায়ী ইবাদত করি আর পরিবারে, সমাজে  এবং জাতীয় জীবনে অন্য নিয়ম মেনে চলি তাহলে আমরা ক্ষতিগ্র¯তদের  অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব। এতে আমাদের পার্থিব জীবনও হবে সঙ্কটপূর্ণ। আল্লাহ বলেন, “আর যে ব্যক্তি আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে তার জীবনে বাঁচার সামগ্রী সংকুচিত হয়ে যাবে, সর্বোপরী কিয়ামতের দিন তাকে অ›ধ করে উঠানো হবে। ” সুরা নিসার ১৩৫ নং আয়াতে বলা হয়েছে - হে বিশ্বাসীগণ তোমরা আল্লাহর সাক্ষী হিসেবে ন্যায় বিচারে অবিচলিত থাকিও , এমনকি যদি ইহা তোমাদের অথবা তোমাদের পিতা-মাতার অথবা আত্মীয় স্বজনের বিরুদ্ধেও যায় এবং সে বিচার-বস্তু ধনীরই হউক বা দরিদ্রের -ই হউক , কারণ আল্লাহ তোমাদের  অপেক্ষাও তোমাদের উভয়ের অধিকতর নিকটে। বর্তমানে কুরআন ও সহীহ হাদিসগুলোর বিভিন্ন প্রকাশনীর অনুবাদ ও তাফসীর পাওয়া যাচ্ছে। এগুলোর মাধ্যমে সহজেই কুরানকে বুঝার সুযোগ রয়েছে। শুধুমাত্র বই-পুস্তক নয় মোবাইল, সেডি- ভিসিডিসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এখন সহজেই কুরআনের জ্ঞান লাভ করা যায়।

 ছেলে- মেয়ে ছোট থাকতেই আমরা চিন্তা করি আমার ছেলেটাকে ইঞ্জিনিয়ার এবং মেয়েটাকে ডাক্তার বানাবো। সে অনুযায়ী তাদের জন্য  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করি। কিন্তু কুরআন হাদির স্পস্টভাবে বুঝার জন্য কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করিনা। মানুষ মৃত্যুবরণ করার পর সকল প্রকার আমলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়, শুধুমাত্র ৩টি আমল বন্ধ হয় না। এর মধ্যে একটি হচ্ছে নেক সন্তান। নেক সন্তান পিতা-মাতার জন্য দোয়া করলে তার ফায়দা পাওয়া যায়।  কুরআন হচ্চে আল্লাহর এক মহা-নেয়ামত। এটি আমাদের জ্ঞানের উৎস। জীবন চলার পথে আমরা “ প্রেসক্রিপশন”  হিসেবে ব্যবহার করতে পারি। এ “প্রেসক্রিপশন” কিভাবে বাস্তবায়ন করব তা আমাদেরকে প্রিয় নবি হযরত মুহাম্মদ  (সাঃ ) দেখিয়ে দিয়ে গেছেন। পবিত্র হাদিস গ্রন্থগুলোতে এর বিস্তারিত বিবরণ দেয়া হয়েছে। তবে কুরআন ও হাদিসে কোন মতপার্থক্য থাকলে সেক্ষেত্রে কুরআনকেই প্রাধান্য দিতে হবে। 

আমরা কুরানের মাধ্যমেই জানতে পারি দুনিয়া হচ্ছে আখেরাতের শস্য ক্ষেত্র। এ শস্যক্ষেত্রে আমরা কিভাবে চাষ করব, কিধরণের বীজ বপন করব? কিভাবেই বা তার পরিচর্যা করবো? এসব কিছুর নিয়ম কানুন দেয়া আছে মহা-গ্রন্থ আল কুরআন । যারা দ্বীনকে খেলার সামগ্রী ও আমোদ প্রমোদ মনে করে তাদেরকে বর্জন করা উচিত। কোন যায়গায় এ ধরনের আলোচনা হলে তাতে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থেকে তাদের সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে।



মর্যাদাপূর্ণ মুসলমান ও আল্লাহর প্রিয় বান্দা হতে হলে সহিহ শুদ্ধভাবে , তাজভীদ অনুযায়ী কুরান তিলাওয়াত , মুখস্ত ও কোরানের নির্দেশ অনুযায়ী জীবন গঠন করতে হবে। দায়সাড়াভাবে   কুরআন পড়লে হবে না। একটি হরফের যায়গায় অন্য আরেকটি হরফ উচ্চারণ করলে পাপ হবে। বিশেষ করে কাফ, ক্বফ, জিম, জাল, জা, এর উচ্চারণ মাখরাজ অনুযায়ী পৃথকভাবে উচ্চারণ করতে হবে। একটু অবহেলা অথবা ত্রæটির জন্য অর্থের বিকৃতি ঘটতে পারে। তবে অসাবধানতা বা খামখেয়ালী করে পড়লে তিনি গুনাহগার হবেন। আল্লাহর স্মরণ বা কুরান থেকে দূরে থাকলে শয়তানের প্রবঞ্চনায় পড়ে জাহানান্নামের দিকে ধাবিত হবেন। আর জাহান্নাম মানেই আগুন। জাহান্নামীদেরকে সামনে পেছনে, উপর-নীচ চতুির্দক থেকে আগুন দ্বগ্ধ করবে।লেখকঃ রাষ্ট্রবিজ্ঞানের  প্রভাষক , সাংবাদিক ও ধর্মীয় গবেষক, কুমিল্লা। 






No comments

Theme images by mammuth. Powered by Blogger.