mafiz uddin ahmed
মফিজউদ্দীন আহমদ
(১৮৯১–১৯৭৯) ছিলেন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী, যিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে
দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি কুমিল্লার দেবীদ্বারের বড়শালঘর গ্রামে ১৮৯১ সালে জন্মগ্রহণ
করেন। প্রাথমিক শিক্ষা ও পড়াশোনা শেষে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ১৯১৯ সালে
ইংরেজিতে বিএ (অনার্স) পাস করেন এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএল ডিগ্রি অর্জন
করেন। তাঁর ছেলে এ বি এম গোলাম মোস্তফা ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক সচিব, মন্ত্রী ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য।
মফিজউদ্দীন আহমদের
রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় কুমিল্লা জেলা বারে আইনচর্চা করার সময়। ১৯৩৩ সালে তিনি মুসলিম
লীগের সাথে যোগদান করে তৎকালীন ত্রিপুরা জেলা মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত
হন। ১৯৩৮ সালে তিনি বঙ্গীয় আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং ১৯৪০ সালে শিক্ষা বিষয়ক
পার্লামেন্টারি সেক্রেটারি মনোনীত হন। ১৯৪৬ সালে আবারও তিনি বঙ্গীয় আইন পরিষদের সদস্য
নির্বাচিত হন এবং পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর পূর্ব পাকিস্তানের ত্রাণ, পুনর্বাসন, রেজিস্ট্রেশন ও কারাগার বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব
পালন করেন।
তিনি ১৯৫৪ সালে পাকিস্তান
পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হন এবং ১৯৬২–১৯৬৫ পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষামন্ত্রী
হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মফিজউদ্দীন আহমদ তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক "আমলে
খান সাহেব" ও "খান বাহাদুর" খেতাব অর্জন করেন। পাকিস্তান সরকার তাঁকে
"সিতারা-ই-কায়েদে আজম" খেতাব দিয়ে সম্মানিত করে।
মফিজউদ্দীন আহমদের
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাজ দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও পুনর্বাসন প্রকল্পে বিশেষ অবদান রাখে।
তিনি শিক্ষার প্রসার ও উন্নয়নে মনোনিবেশ করেছিলেন, যা পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষানীতি ও শিক্ষাব্যবস্থার
উন্নতিতে সহায়ক হয়। এছাড়াও তিনি দেশের নাগরিক সমাজে নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের গুরুত্ব
বোঝাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
মফিজউদ্দীন আহমদ ১৯৭৯
সালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জীবন ও কর্ম বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে
চিহ্নিত। তিনি শুধু একজন আইনজীবী ও রাজনীতিবিদই ছিলেন না, বরং শিক্ষাব্যবস্থা ও সমাজসেবায়ও গুরুত্বপূর্ণ
অবদান রেখেছেন। তাঁর সন্তানরা তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ববোধের ধারাকে অব্যাহত
রেখেছেন।
তথ্যসূত্র:
"আহমদ,
মফিজউদ্দীন",
বাংলাপিডিয়া, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Assembly (1947-1954),
Pakistan Constituent (1948),
Official Report
দৈনিক আমাদের সময়,
১৭ মে ২০১৮, “খান সাহেব ছিলেন প্রকৃত দেশপ্রেমিক নাগরিক:

No comments