খাদ্য দিয়ে ফিতরা আদায় (সুন্নত পদ্ধতি)//
খাদ্য দিয়ে ফিতরা আদায় (সুন্নত পদ্ধতি)//
মমিনুল ইসলাম মোল্লা, শিক্ষক, সাংবাদিক ও ধর্মীয় আলোচক কুমিল্লা।।
রমযান মাসের সিয়াম পালনকারীর ত্রুটি-বিচ্যুতি পূরণ এবং দরিদ্র মানুষের খাদ্যের ব্যবস্থা করার উদ্দেশ্যে ইসলাম ধর্মে যাকাতুল ফিতর বা ফিতরা নির্ধারিত হয়েছে। ঈদের নামাজের পূর্বে নির্দিষ্ট পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী দান করাই হলো ফিতরা আদায়। এটি প্রত্যেক মুসলিম নারী-পুরুষ, ছোট-বড়, স্বাধীন-পরাধীন সকলের উপর ওয়াজিব।
ফিতরার নির্ধারিত পরিমাণ হলো জনপ্রতি এক সা‘, যা বর্তমান হিসাবে প্রায় ২ কেজি ৪০ গ্রাম খাদ্যের সমান। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফিতরা হিসেবে খেজুর, যব ইত্যাদি খাদ্যদ্রব্য নির্ধারণ করেছেন। সাহাবায়ে কেরামও খাদ্য দিয়েই ফিতরা আদায় করতেন। অন্য হাদিসে উল্লেখ আছে যে, তারা গম, কিসমিস, পনিরসহ বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য দ্বারা ফিতরা প্রদান করতেন। এ থেকে বোঝা যায়, সমাজে প্রচলিত প্রধান খাদ্যদ্রব্য দিয়েই ফিতরা আদায় করা উত্তম।
ফিতরা আদায়ের ক্ষেত্রে ইসলামের বিভিন্ন মাযহাবের মধ্যে কিছু মতপার্থক্য রয়েছে। মালিকী, শাফেয়ী ও হাম্বলী মাযহাবের আলেমগণ মনে করেন, যেহেতু হাদিসে খাদ্যদ্রব্যের কথা বলা হয়েছে, তাই খাদ্য দিয়েই ফিতরা আদায় করা উচিত এবং এটিই সুন্নত। অন্যদিকে, হানাফী মাযহাবের মতে প্রয়োজনের ক্ষেত্রে ফিতরার মূল্য অর্থাৎ টাকা দিয়েও আদায় করা জায়েয। তবে সর্বসম্মতভাবে বলা যায়, খাদ্য দিয়ে ফিতরা আদায় করাই উত্তম ও সুন্নতসম্মত পদ্ধতি।
ফিতরা আদায়ের নির্দিষ্ট সময়ও নির্ধারিত রয়েছে। উত্তম সময় হলো ঈদের দিন ঈদের নামাজের পূর্বে ফিতরা প্রদান করা। তবে ঈদের এক বা দুই দিন আগে ফিতরা আদায় করাও জায়েয। যদি কেউ ঈদের নামাজের পর ফিতরা প্রদান করে, তাহলে তা ফিতরা হিসেবে গণ্য না হয়ে সাধারণ সদকা হিসেবে বিবেচিত হবে।
ফিতরা কার উপর ওয়াজিব হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যদি কোনো ব্যক্তি ঈদের দিন নিজের ও তার পরিবারের প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্য মজুদ রাখে, তাহলে তার উপর এবং তার পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব হবে। একইভাবে, ঈদের দিনের আগে জন্মগ্রহণকারী সন্তানের জন্যও ফিতরা দিতে হবে। তবে সূর্যোদয়ের পর জন্ম নিলে তা বাধ্যতামূলক নয়।
ফিতরার মূল উদ্দেশ্য হলো রোজাদারকে পবিত্র করা এবং দরিদ্র মানুষের খাদ্যের ব্যবস্থা করা। তাই ফিতরা এমনভাবে আদায় করা উচিত যাতে প্রকৃত অভাবগ্রস্ত মানুষ উপকৃত হয়। যদি কোনো দরিদ্র ব্যক্তি খাদ্য গ্রহণ করতে না চায় বা বিশেষ প্রয়োজন থাকে, তখন বিশেষ পরিস্থিতিতে অর্থ দিয়েও সহায়তা করা যেতে পারে।
সুতরাং, ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী খাদ্য দিয়ে ফিতরা আদায় করাই হলো সুন্নত ও উত্তম পদ্ধতি। এর মাধ্যমে একদিকে রোজার ত্রুটি পূরণ হয়, অন্যদিকে সমাজের দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটে।
লেখক পরিচিতি -মমিনুল ইসলাম মোল্লা শিক্ষক সাংবাদিক ও গুগল কন্ট্রিবিউটর, কুমিল্লা।।

No comments