১৯৭১।। কেমন ছিল ঈদুল ফিতর//

 ১৯৭১।। কেমন ছিল ঈদুল ফিতর//

মমিনুল ইসলাম মোল্লা, শিক্ষক সাংবাদিক ও গুগুল কন্ট্রিবিউটর।।


১৯৭১ সালের ঈদুল ফিতর ছিল বাঙালির জীবনের এক ব্যতিক্রমী ও বেদনাবিধুর দিন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক বাশার খান লিখেছেন, এমন নিরানন্দ ও বিষণ্ন ঈদ বাঙালির ইতিহাসে আর কখনো আসেনি।

সে সময় পাকিস্তানি বাহিনীর টানা আট মাসের হত্যাযজ্ঞ, নিপীড়ন ও নির্যাতনে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল। ঠিক এই অবস্থার মধ্যেই পঞ্জিকার নিয়ম মেনে ঈদ আসে যুদ্ধবিধ্বস্ত জনপদে।

ঈদের দিনে পাকিস্তানের সামরিক সরকার তাদের সেনাদের মনোবল ধরে রাখতে বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করে। একইসঙ্গে রাজাকার, আলবদর ও আল শামস বাহিনীর সদস্যদের জন্যও বাড়ানো হয় বেতন ও রেশন। এমনকি তাদের জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল।

অন্যদিকে, যারা দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রেখে লড়ছিলেন, সেই মুক্তিযোদ্ধাদের ঈদ কেটেছিল রণাঙ্গনে—অস্ত্র হাতে, অনিশ্চয়তা আর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে।

যুদ্ধের সময় দেশের অভ্যন্তরে যারা অবরুদ্ধ ছিলেন, তাদের জীবনও ছিল ভয়ের মধ্যে বন্দী। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা কার্যত একটি অবরুদ্ধ নগরীতে পরিণত হয়েছিল। শহরের সর্বত্র ছিল পাকিস্তানি সেনাদের কড়া টহল, আর যখন-তখন গুলির শব্দে আতঙ্কে কেটে যেত দিনরাত। এমনকি ঈদের সকালেও অনেক ঢাকাবাসীর ঘুম ভেঙেছিল গোলার শব্দে।

অন্যদিকে, প্রায় এক কোটি মানুষ প্রতিবেশী ভারত-এর শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিল। সেখানে তাদের ঈদ কেটেছিল চরম কষ্ট, অনিশ্চয়তা ও মানবেতর জীবনের মধ্য দিয়ে।

🔹 সংক্ষেপে:

১৯৭১-এর ঈদ ছিল না আনন্দের, বরং তা ছিল সংগ্রাম, ত্যাগ ও বেদনার প্রতীক—যেখানে উৎসবের চেয়ে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাই ছিল প্রধান।

লেখক পরিচিতি -মমিনুল ইসলাম মোল্লা শিক্ষক সাংবাদিক ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক লেখক কুমিল্লা।।

No comments

Theme images by mammuth. Powered by Blogger.