📰 মুরাদনগরের বাঁশ ও বেত শিল্পীরা ব্যস্ত -নববর্ষ
📰 মুরাদনগরের বাঁশ ও বেত শিল্পীরা ব্যস্ত -নববর্ষ
মমিনুল ইসলাম মোল্লা , শিক্ষক, ঊইকি সংকলক ও গুগল কন্ট্রিবিউটর, কুমিল্লা।
বাংলা নববর্ষকে সামনে রেখে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার মাজুর গ্রামের বাঁশ ও বেত শিল্পীরা এখন চরম ব্যস্ত সময় পার করছেন। বছরের এই সময়টিতে গ্রামীণ মেলা, হাট-বাজার এবং পারিবারিক আয়োজনকে কেন্দ্র করে দেশীয় বাঁশ ও বেতজাত পণ্যের চাহিদা তুলনামূলকভাবে বৃদ্ধি পায়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে সংকটে থাকা এই কুটির শিল্পে কিছুটা হলেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
মাজুর গ্রামের নম পাড়ার প্রায় ৪৯টি পরিবার বংশানুক্রমে এই পেশার সঙ্গে জড়িত। একসময় গ্রামীণ জীবনের প্রতিটি প্রয়োজনীয় জিনিসই তৈরি হতো বাঁশ ও বেত দিয়ে। বর্তমানে প্লাস্টিক ও আধুনিক পণ্যের আগ্রাসনে এই শিল্প অনেকটাই সংকুচিত হয়ে পড়েছে। তবুও ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরে এখনো এই পরিবারগুলো জীবিকা নির্বাহ করে যাচ্ছে।
কারিগররা জানান, তারা বাঁশ ও বেত দিয়ে বিভিন্ন ধরনের পণ্য তৈরি করছেন। এর মধ্যে রয়েছে ডালা, কুলা, চালন, খাঁচি, ডুলি, পাটি, চাটা, ঝুড়ি এবং বিভিন্ন কৃষি ও গৃহস্থালি উপকরণ। বিশেষ করে নববর্ষকে ঘিরে এসব পণ্যের বিক্রি কিছুটা বেড়ে যায়, যা তাদের জন্য স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
কারিগর সন্তুস চন্দ্র রায় বলেন, “আগে এই পেশার অনেক কদর ছিল। এখন প্লাস্টিক পণ্যের কারণে বাজার কমে গেছে। তবুও নববর্ষের সময় কিছু কাজ পাওয়া যায়।” তিনি আরও জানান, আয় কমে যাওয়ায় অনেক পরিবার আর্থিকভাবে কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।
অন্যদিকে নারায়ন চন্দ্র জানান, বংশপরম্পরায় পাওয়া এই পেশা ছাড়তে মন চায় না। কিন্তু কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং বাজারে প্রতিযোগিতার কারণে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, সরকারি সহায়তা পেলে এই শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
স্থানীয়দের মতে, বাঁশ ও বেত শিল্প বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একসময় কৃষিজীবী সমাজের দৈনন্দিন জীবনে এই পণ্যের ব্যবহার ছিল অপরিহার্য। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে আধুনিক পণ্যের আধিপত্যে এই শিল্প আজ বিলুপ্তির পথে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন। সহজ শর্তে ঋণ, আধুনিক ডিজাইন প্রশিক্ষণ এবং বাজার সম্প্রসারণ করা গেলে এই শিল্প আবারও সম্ভাবনাময় খাতে পরিণত হতে পারে।
বাংলা নববর্ষের এই সময়ে সাময়িক ব্যস্ততা কারিগরদের মাঝে কিছুটা আশা জাগালেও দীর্ঘমেয়াদে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। তবুও ঐতিহ্য ও জীবিকার টানে মুরাদনগরের এই বাঁশ ও বেত শিল্পীরা লড়াই করে যাচ্ছেন টিকে থাকার জন্য।
লেখক পরিচিতি -মমিনুল ইসলাম মোল্লা শিক্ষক সাংবাদিক ও কলামিস্ট, কুমিল্লা।।

No comments