কোম্পানীগঞ্জ ব্রিজ ধ্বংস -প্রসঙ্গ মুক্তিযুদ্ধ
- মুক্তিযুদ্ধে অবদান: ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে মেজর জেনারেল আর. ডি. হিরার নেতৃত্বে মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর যৌথ অভিযানে ৭-৮ ডিসেম্বর কুমিল্লা ও তার আশেপাশের এলাকা (যেমন: লাকসাম, দেবিদ্বার) পাক হানাদার মুক্ত হয় [২, ৪]।
- কৌশল: তাঁর পরিকল্পনায় যৌথবাহিনী কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক বিচ্ছিন্ন করে এবং লাকসাম-কুমিল্লা সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন করে পাকিস্তানী বাহিনীকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করে [২, ৪]।
- বীরত্ব ও পুরস্কার: ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে অসামান্য সাহসিকতা ও নেতৃত্বের জন্য তিনি '#মহাবীরচক্র' (#MahavirChakra) পুরস্কারে ভূষিত হন [১]।
- পদবী: শুরুতে ব্রিগেডিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও, পরে তিনি লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদমর্যাদা অর্জন করেন [১]।
তিনি ছিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর অন্যতম সাহসী ও কৌশলগত চিন্তাবিদ [১]। ১১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে মিত্রবাহিনীর ২৩ মাউন্ড ডিভিশনের মেজর জেনারেল আর.ডি. বিহার (R.D. Hira) এর নেতৃত্বে বৃহত্তর কুমিল্লায় যৌথ অভিযান পরিচালিত হয় [১, ২]। এই বাহিনীর সহায়তায় মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী যৌথ আক্রমণ চালিয়ে ৩-৪ ডিসেম্বরের মধ্যে দেবিদ্বারসহ কুমিল্লার গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো হানাদার মুক্ত করে [৩, ৪]।
- নেতৃত্ব: মিত্রবাহিনীর ২৩ মাউন্ড ডিভিশন কমান্ডার মেজর জেনারেল আর.ডি. বিহার [১]।
- অভিযান: মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর যৌথ অভিযান [৩, ৪]।
- অবদান: বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকা (যেমন- দেবিদ্বার, রামগঞ্জ, রামগতি) ৪ ডিসেম্বরের আশেপাশে মুক্ত হয় [৩, ৫]।
- ফলাফল: এই যৌথ আক্রমণে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহ হানাদার মুক্ত হয় এবং পাকিস্তানি বাহিনী পিছু হটে [৪]।
এই অভিযানটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে কুমিল্লা অঞ্চলের বিজয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল।৯৭১ সলের রক্তে ঝরা দিনগুলোতে মুক্তি ও মিত্রবাহিনীর যৌথ আক্রমনে হানাদার মুক্ত হয়েছিল কুমিল্লার বিভিন্ন অঞ্চল। তারই ধারাবাহিকতায় দেবিদ্বার এলাকা হানাদার মুক্ত হয়েছিল ৪ ডিসেম্বর। মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর যৌথ অভিযানে ওইদিন হানাদারদের বিরুদ্ধে আক্রমন পরিচালনা করে। ৩ডিসেম্বর রাতে মুক্তিবাহিনী ‘কুমিল্লা-সিলেট’ মহাসড়কের কোম্পানীগঞ্জ সেতুটি মাইন বিষ্ফোরনে উড়িয়ে দেয়। মিত্রবাহিনীর ২৩ মাউন্ড ডিভিশনের মেজর জেনারেল আর.ডি বিহারের নেতৃত্বে বৃহত্তর কুমিল্লায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। মিত্রবাহিনীর একটি ট্যাংক বহর বুড়িচং ব্রাক্ষনপাড়া হয়ে দেবিদ্বারে আসে। হানাদাররা ওই রাতেই দেবিদ্বার ছেড়ে কুমিল্লা সেনানিবাসে পালিয়ে যায়। ধীরে ধীরে মুক্তিবাহিনীর বিভিন্ন গ্রুপ দেবিদ্বার সদরের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এরই মধ্যে মিত্রবাহিনীর ট্যাংক বহরটি দেবিদ্বার থেকে চান্দিনা রোডে ঢাকা অভিমুখে যাওয়ার সময় মোহনপুর এলাকায় ভুল বোঝাবুঝির কারনে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে গুলি বিনীময় হলে মিত্রবাহিনীর ৬ সেনা সদস্য নিহত হয়। এই দিনে দেবিদ্বারের উল্লাসিত জনতা ও মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীন বাংলার পতাকা নিয়ে বিজয় উল্লাসে ‘জয়বাংলা’মেতে উঠে। দুপুর পর্যন্ত ওইদিন হাজার হাজার জনতা বিজয় উল্লাসে উপজেলা সদর প্রকম্পিত করে তোলে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় কসবা এলাকা ছিল ২নং সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ (পরে মেজর জেনারেল, বীর উত্তম, ১৯৭৫-এ সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত)। তিনি তাঁর সেক্টরকে ছয়টি সাব-সেক্টরে বিভক্ত করেন। এর মধ্যে কসবা-আখাউড়া-গঙ্গাসাগর সাব-সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আইনউদ্দিন (পরে মেজর জেনারেল, বীর প্রতীক, পিএসসি)। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ক্যাপ্টেন মাহবুব, লেফটেন্যান্ট ফারুক ও লেফটেন্যান্ট হুমায়ুন কবির। এ এলাকায় চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একটি কোম্পানি এবং ইপিআর-এর দুটি কোম্পানি ছিল। তাদের সঙ্গে নৌবাহিনীরও একটি দল ছিল।
এই সাব-সেক্টর কসবা, আখাউড়া, সাইদাবাদ, নবীনগর, বাঞ্ছারামপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং কুমিল্লার মুরাদনগর পর্যন্ত অপারেশন চালাত। ক্যাপ্টেন আইনউদ্দিন নবম বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধিনায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

No comments