৭১ এর রণাঙ্গণ ও বিজয় ভাবনা

বিভিন্ন স্টাইল ও ফন্ট - উদাহরণ

বিভিন্ন স্টাইল ও ফন্ট — HTML উদাহরণ

নীচে বাংলা (Bangla) টেক্সটের জন্য কয়েকটি জনপ্রিয় ফন্ট ও স্টাইলের নমুনা দেওয়া হল। প্রতিটি ব্লকে সহজে কপি করে নিজের প্রজেক্টে ব্যবহার করতে পারেন।

নমুনা টেক্সট: "বাংলা ফন্ট ও স্টাইল নমুনা — মমিনুল ইসলাম মোল্লা"
Noto Sans Bengali — Bold
Noto Sans Bengali — Light (300)
use: font-family: 'Noto Sans Bengali', sans-serif;
Hind Siliguri — Stroke + Shadow
Hind Siliguri — Italic
use: font-family: 'Hind Siliguri', sans-serif;
Baloo 2 — Gradient (Decorative)
Baloo 2 — Outline
use: font-family: 'Baloo 2', cursive;
Noto + Shadow (readable headlines)
Mixed: ইংরেজি LETTERS + বাংলা টেক্সট (caps applied)
মিশ্র লেখা (Bangla + English)–caps প্রয়োগ করা যায়।

কিভাবে ব্যবহার করবেন

  1. এই HTML ফাইলটাকে কপি করে রাখুন বা সরাসরি আপনার প্রজেক্টে যুক্ত করুন।
  2. প্রয়োজনে Google Fonts লিংক পরিবর্তন/অপশন যোগ করুন।
  3. স্টাইল কাস্টমাইজ করতে CSS ক্লাস ব্যবহার করুন (উদাহরণ: .gradient, .outline)

নিম্নে একটি খুদে জাভাস্ক্রিপ্ট দিয়ে কপি ও নমুনা টেক্সট পরিবর্তনের কোড দেওয়া আছে — সরাসরি ব্যবহার করা যাবে:

// JS: copy & toggle
const sampleText1 = 'বাংলা ফন্ট ও স্টাইল নমুনা — মমিনুল ইসলাম মোল্লা';
const sampleText2 = 'আরেকটি নমুনা টেক্সট: সৃজনশীল ফন্ট প্রদর্শন';
let current = 1;

document.getElementById('copyBtn').addEventListener('click', async ()=>{
  try{
    await navigator.clipboard.writeText(document.querySelector('.wrap').innerText.trim());
    alert('পেজের টেক্সট কপি করা হয়েছে');
  }catch(e){
    alert('কপি বিফল: ' + e);
  }
});

document.getElementById('toggleSample').addEventListener('click', ()=>{
  const nodes = document.querySelectorAll('.sample .card div:first-child');
  nodes.forEach(n=> n.textContent = (current===1)? sampleText2 : sampleText1);
  current = current===1?2:1;
});

আপনি চাইলে এই ফাইল থেকে শুধু CSS ক্লাসগুলো কপি করে নিবেন — অথবা আমাকে বলুন, আমি আপনার বিশেষ টেক্সট (নাম/শিরোনাম) দিয়ে কাস্টম স্টাইল তৈরি করে দেব।

 

৭১ এর রণাঙ্গণ ও বিজয় ভাবনা

 

মমিনুল ইসলাম মোল্লা, সাংবাদিক, শিক্ষক ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক, কুমিল্লা

 

১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। বাঙালি জাতির হাজার বছরের শৌর্যবীর্য, ত্যাগ ও বীরত্বের ইতিহাসে এই দিনটি এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয় এই দিনে।

 

স্বাধীনতার ঘোষণা ও সংগঠন

 

২৫ মার্চ কালরাত্রিতে পাকিস্তানি সেনারা ঢাকার রাজাবাগ, বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ ক্যাম্পে নির্বিচারে গণহত্যা চালায়। এর পরদিন চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে গণহত্যার খবর প্রচারিত হয়। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বাঙালির মুক্তির আহ্বান ছড়িয়ে দেয়। ১৭ এপ্রিল অস্থায়ী সরকার শপথ গ্রহণের পর ৯ সেপ্টেম্বর তাজউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হয়।

 

ছাত্র সমাজ ও জনতার প্রতিরোধ

 

মুক্তিযুদ্ধে ছাত্র সমাজের অবদান ছিল অনন্য। সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরে গেরিলা আক্রমণ চালায়। রাজশাহী, কুষ্টিয়া, দিনাজপুর, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ছাত্র-জনতা পাক সেনাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

 

নিয়মিত ও আঞ্চলিক বাহিনী

 

মুক্তিবাহিনী গঠিত হয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, পুলিশ, আনসার, মুজাহিদ ও স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে। এর মধ্যে তিনটি ব্রিগেড—কে ফোর্স, এস ফোর্স ও জেড ফোর্স ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীও যুদ্ধ পরিচালনা করে। আঞ্চলিকভাবে গড়ে ওঠে কাদেরিয়া বাহিনী, বাতেন বাহিনী, হেমায়েত বাহিনী, আকবর বাহিনী, জিয়া বাহিনী প্রভৃতি। নারীরাও অস্ত্র হাতে লড়াইয়ের পাশাপাশি চিকিৎসা ও রসদ সরবরাহে ভূমিকা রাখেন।

 

আন্তর্জাতিক সহযোগিতা

 

প্রবাসী বাঙালিরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের দূত হিসেবে কাজ করেন। ভারতের পাঁচটি প্রদেশে প্রায় এক কোটি শরণার্থী আশ্রয় নেন, যাদের জীবন ছিল চরম দুর্বিষহ। তবুও তারা সংগ্রামের চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখেন।

 

গণমাধ্যম ও প্রেরণা

 

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র মুক্তিকামী মানুষের অনুপ্রেরণার উৎস ছিল। দেশাত্মবোধক গান, কবিতা, নাটক এবং এম আর আখতার মুকুলের “চরমপত্র” মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস যুগিয়েছে। কলকাতার আকাশবাণী ও বিবিসি নিয়মিত যুদ্ধের খবর প্রচার করেছে।

 

বিজয়ের সূর্যোদয়

 

৩ ডিসেম্বর পাকিস্তান ভারতের উপর বিমান হামলা চালালে ভারত যৌথ বাহিনী গঠন করে মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে মিলে যুদ্ধ শুরু করে। দ্রুত কুমিল্লা, ব্রাহ্মণপাড়া, দেবিদ্বারসহ বিভিন্ন এলাকা মুক্ত হয়। ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি সেনাদের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে বাঙালি জাতির দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল স্বাধীনতা অর্জিত হয়।

 

 

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ কেবল একটি যুদ্ধ নয়, এটি ছিল আত্মত্যাগ, ঐক্য ও স্বাধীনতার জন্য সংগ্রামের মহাকাব্য। বিজয় দিবস তাই কেবল স্মৃতি নয়, আগামী প্রজন্মের জন্য চিরন্তন অনুপ্রেরণার বাতিঘর।

মমিনুল ইসলাম মোল্লা, সাংবাদিক, শিক্ষক ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক, কুমিল্লা

লেখকে  পরিচিতি : মমিনুল ইসলাম মোল্লা, সাংবাদিক, শিক্ষক ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক, কুমিল্লা

No comments

Theme images by mammuth. Powered by Blogger.