কওমী মাদ্রাসায় দ্বীন শক্ষিা
কওমী মাদ্রাসায় দ্বীন শক্ষিা
নবিজীর সময়ে মসজিদে নববীতে ধর্মীয় শিক্ষার ব্যস্থা ছিল। খোলাফায়ে রাশেদিনের আমলে তা আরো বিস্তৃত হয়। তৎকালীন সময়ে বিশেষ করে ইরাকে মাদ্রাসা শিক্ষা বিস্তার লাভ করে। এরকম একটি শিক্ষাকেন্দ্রে শিক্ষকতা করেন হযরত অবব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ )। ছাত্র সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আলী (রাঃ) ও শিক্ষা দেন। এখানে প্রায় বার হাজার তাবেয়ী কুরআন - হাদিস শিক্ষা লাভ করেন। সিপাহসালার ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি ১২০৬ সালে বঙ্গদেশ জয় করার পর রংপুরে একটি কওমী মাদ্রাসা স্থাপন করেন। ১৩০০ সালের প্রথম দিকে শাহ তুরকান শহিদ মাদ্রাসা স্থাপন করেন বগুড়ায়। শাহ তাকিউদ্দিন রাজশাহীতে ও শায়খ শরফুদ্দিন সোনারগাও একটি মাদ্রাসা স্থাপন করেন । ভারতবর্ষে কওমী মাদ্রাসা শিক্ষার সূচনা ১৩০০ ইংরেজী সনের প্রথম দিকে । এসময় মুলতানের গভর্ণর নাসিরুদ্দিন কুবাচাহ মুলতানের “ উচ্ছ” নামক স্থানে “ মাদ্রাসায়ে ফীরুজী ” নামে একটি মাদ্রাসা স্থাপন করেন। কেউ কেউ মন্তব্য করেন মাদ্রাসা শিক্ষিত লোকেরা শুধুমাত্র পরকাল নির্ভর জ্ঞান সমৃদ্ধ। তারা প্রশাসনিক কাজে তেমন দক্ষ নন। কিন্তু ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়- মোগল আমলে মাদ্রাসা থেকে পাশ করা আলেমগণ রাজপরিবারের শিক্ষা দিক্ষা আদালতে বিচারকের দায়িত্ব এবং দাতব্য কাজ কর্মের তদারকী করতেন। উপযুক্ত শিক্ষা ও সুযোগ সুবিধা পেলে কওমী আলেমরা প্রশাসনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। বৃটিশদের আগে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল উৎস জায়গীর ও ওয়াকফকৃত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে দিলে হাজার হাজার মাদ্রাসা বন্ধ হয়ে যায়। ইতিপূর্বে মুসলিম শাসক ও জমিদারদের অর্থে প্রায় সতের হাজার মাদ্রাসা পরিচালিত হতো।আইন শাস্ত্রে মাদ্রাসা শিক্ষিত যুবকগণ বিশেষ দক্ষতা লাভ করতে পারেন। তাদের দক্ষতা ফুটে উঠে। ব্রিটিশ শাসনের প্রথম দিকে । ইতিহাসবিদ উইলিয়াম হান্টার লিখেছেন- কাজি বা মুসলমান আইনজ্ঞরা দেওয়ানি অঅদালতে বিচার করতেন। এমনকি অধমরা যখন সর্বপ্রথম শিক্ষিত অধহলে বিলাতি ( ভিনদেশি) দিয়ে এদেশের বিচারকাজ চালানোর চেষ্টা করলাম। তখনো মুসলমান অঅইনজ্ঞরা আইনেরপরামর্শদাতা হিসাবে তাদেও সঙ্গে রীতিমতো উাাবসা করতেন। ইসলামী বিধি ব্যবস্থাই এদেশের আইন কানুন ছিল।
উন্নত সিলেবাসঃ উইলিয়াম অ্যাডাম বাংলার আরবি উচ্চ শিক্ষার মাদ্রাসাগুলোর পাঠ্যসূচীর প্রশংসা করে বলেন, আরবি বিদ্যালয়ে ব্যাকরণ পাঠ অনেক বেশি সুসংহত। দর্শনশাস্ত্র , তর্কশাস্ত্র ও আইন নিয়মিত পঠিত হয়। এছাড়া ইউক্লিডের জ্যামিতি , টলেমির জোতিষ শাস্ত্র, ও দর্শন চর্চা করা হয়। তিনি আরো বলেন- মুদ্রনযন্ত্র আবিষ্কারের আগে ভারতীয় মুসলমানদেও বিজ্ঞান চর্চা ইউরোপের মতো উন্নত ছিল।
ডসপাহী অঅলেমঃ ১৮৫৭ সালের সিপাহী েিদ্রাহে অঅলেমেদেও ভ’মিকা ছিল প্রশংসনীয় । ৩৪ জন শীর্ষ স্থানীয় অঅলেম ছিলেন অগ্রভাগে। তাদেও মধ্যে ২জন ছিলেন দেওবন্দ মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা অঅলেমদেও মধ্যে অন্যতম। এরা হচ্ছেন- মাওলানা মুহাম্মদকাসেম নানতুবি এবং রশিদ আহমদ গাঙ্গুহী। উল্লেখ্য সিপাহী যুদ্ধে ৫১ হাজার ২০০ জন অঅলেমকে হত্যা করা হয়। সর্বমোট হত্যা করা হয় ২ লক্ষ লোক। আরো জানা যায় ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহ ব্যর্থ হলে অধালেম ওলামা দেও উপর চরম নির্যাতন নেমে অঅসে। বহু অঅলেমকে হত্যা করা হয়। শহীদ আলেমদেও বিকৃত ললাশ বহু দিন গাছের ডালে ঝুলিয়ে রাখা হয়। ঐতিহাসিকদেও মতে, দিল্লীর চাদনীর চক থেকে নিয়ে “ খায়বার” নামক স্থান পর্যন্ত কোন গাছ বাকী ছিলনা যেখানে কোন আলেমের লাশ ঝুলেনি। ১৮৬৪-৬৭ সালে পর্যন্ত হত্যাকান্ড চলে। ব্রটিশিদেও বিরুদ্ধে জিহাদেও ফতোয়া প্রদান করেন শাহ আব্দুল আজিজ মুহাদ্দিস দেহলভী। মাওলানা কাসেম নানতুবি , রশিদ আবেদ গাঙ্গুহী, হাজী আবেদ হুসাইন রহঃ ১৮৫৮ সালের জিহাদেউল্লেখযোগ্য ভ’মিকা পালন করেন। তাদেও চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং তারা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ধর্মীয় সেবায় অংশ নেন।
উপসংহারঃ উপযুক্ত শিক্ষা ও সুযোগ সুবিধ া পেলে করমী আলেমরা গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা পালন করতে পারেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ওলামা পার্টিও মাওলানা তর্কবাগীশ গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা পালন করেন। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশে গুপরিষদেও প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। পরবর্তীতেও করমী অঅলেমগণ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজে বিশষ ভ’মিকা পালন করেন।
ঈড় তোমার প্রভ’ও নামেঃ অধল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে প্রথম ওহী হলো “ ইশরা ” তুমি পড়। এটি হেরা গুহায় রাসুল সাঃ এর উপর নাযিল হয়। দ্বীনি এলেমের প্রথম প্রতিষ্ঠান মক্কা নগরীর আরকাম ইবনে আবিল আরকাম রাঃ এর বাড়ি দাওে আরকামে প্রতিষ্ঠিত হয়। কওম আরবি শব্দ। এর অর্থ গোষ্ঠী, গোত্র, জাতি, সম্প্রদায় ও জনগণ। আর করমী হলো গোত্রীয় , জাতীয় জনগণ সম্পর্কিত। মাদ্রাসা আরবি শব্দ। এর অর্থ অধ্যয়নের স্থান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্কুল। মূলত সরকারি সাহায্য বাদেই এ ধরণের মাদ্রাসা পরিচালিত হয়। ৩০ মে ১৮৬৬ হুজ্জাতুল ইসলাম মাওলানা কাসেম নানতুবি রহ) এর উদ্যেগে দেওবন্দ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। মোল্লা মাহমুদ এর শিক্ষক হিসাবে নিযুক্ত হন। ১২৯৬ হিজরীওত সদরু?ল ম ুদারসীন হযরত মাৗলানা ইয়াকুব নানতুবি রহ) এর প্রস্তাবে নাম রাখা হয় “ দারুল উলুমদেওবন্দ”। কাসেম নানতুবি রহ) এর সাথে মাওলানা রাশেদ আমদ গাঙ্গোহী এবং হাজী সাইয়েদ আবিদ হোসেন প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে নেতৃত্ব দেন। করমী ছাত্রদেও বৈশিষ্ট হচ্ছে তারা কোরান – হাদিসের ?আলোকে জ্ঞান লাভ করে। তারা ত্যাগ পরোপকার, সমাজসেবা, ভোগ, বিলাস, র্জন এবং স্বল্প উপার্জনে সন্তুষ্ট থাকার শিক্ষা গস্খহণ করে। এয়াড়া তারা দুনিয়া বিমুখিতা , কষ্ট,স্বীকাওে প্রস্তুত থাকে। দারুল উলুম দেওবন্দেও কৃতি সন্তান হযরত মাৗলানা ইলিয়াস রহঃ প্রতিষ্ঠিত তাবলীগ জামায়াত বিশ্বব্যাপী দাওয়াতে দ্বীনের মিশন চালু রেখেছেন। করমী মাদ্রাসা থেকে লেখাপড়া কওে অঅলেমগণ দেশ-বিদেশে দ্বীনের খেদমত কওে যাচ্ছেন। বিশ্ব পরিস্থেিত দ্বীনের অপব্যখ্যা অপপ্রচার ঠেকাতে তারা ঈমানী দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে ইসলামও মুসলিম জাতির হেফাজতের ব্যাপাওে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা পালন করছেন।
প্রথম দিকে “ দারসে নিযামীর ” অনুসরণে সিলেবাস প্রণীত হয়। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় ১১০০ শতাব্দীর পূর্ব পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাপকহাওে থাকলেও তা কোন সিলেবাসভিত্তিক বা কারিকুলামের আওতায় ছিল না। ১১০৫ হিজরীতে মোল্লা নিজামুদ্দীন সাহালাভী ইসলামী শিক্ষা ঢেলে সাজান। তিনি প্রথম সাহলিী নামক স্থানে এশটি শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করেন। এ শিক্ষা কারিকুলাম অনুযায়ী “ দারসে নিজামিয়া নেসাবের” অনুসরণ করা হয়। উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে অুীতে বাংলাদেশ অঞ্চলে শুধু আরবী ও ফারসী কিতাব পড়ানো হতে। বর্তমানে এগুলোর উর্দু ও বাংলা তর্জমা পড়ানো হয়। মোল্লা কুতুব উদ্দীন শহীদ ( মৃ ১৭১১ খ্রি ) উপমহাদেশে প্রচলিত দরসে নিযামিয়ার উদ্ভাবক।নিজামুদ্দীনের পিতা মোল্লা মোল্লঅ কুতুব উদ্দীনকে ( ১৬৯১ ইং ) শহীদ কওে তার শিক্ষা উপকরণ জ্বালিয়ে দেয়া হয়। পওে নাজিমুদ্দীনসহ চার ভাই স¤্রাট আওরঙ্গজেবের নিকট আশ্রয় পান। লখনৌর ফিরিঙ্গি মহলে তিনি তার সিলেবাস অনুযিায়ী মাদ্রাসা পরিচালনা করেন। এত ১১টি বিষয় ছিল। তবে তার পুত্র মোল্লা নিযামুদ্দীনের ( মৃত ১৭৪৮ খ্রিঃ ) সময় এ শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি ও প্রসার লাভ কওে এবং তা দরসে নিযামিয়া নামে অভিহিত হয়। তখন পবিত্র কুরআন, হাদিস, সমসাময়িক মতামত, ইসলামী আইন শাস্ত্রেও বিধি- বিধান, রাসুলের সিরাত, আরবী ব্যাকরণ, ও বিভিন্ন ভাষা যেমন বাংলা, ফার্সি, শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে সিলেবাস প্রণীত হলেও পরবর্তীতে পরিবর্তন অঅসে। অন্যান্য শিক্ষা ব্যবস্থার মতই করমী মাদ্রাসায় ৬টি জ্ঞান স্তর রয়েছে। দারুল ইলমের অঅইন অনুযায়ী আরবী ক্লাশগুলোতে অংশ নেয়ার আগে পাঁচ বছর মেয়াদী প্রাদমিক স্তওে উর্দু, অধরবি, হিন্দি, ফার্সিসহ অন্যান্য ভাষা সম্পর্কে জ্ঞান দেয়া হয়। ৬ টি স্তর ১৬ টি শেণিতে সম্পূর্ণ হয়। ইবতেদায়ী ৫ম পর্যন্ত শ্রেণি গুলো হচ্ছে- আউয়া
ল, ছানী, ছালেছ, রাবে, খামেছ। অঅল মারহালুল মুতাৗয়াসিসতা বা দ্বিতীয় স্তওে রয়েছে ৩টি শ্রেনী। এগুলো হচ্ছে আউয়াল, ছানি, ও ছালেছ। ৯ম ও দশমের সমমান আস সানাতুল উলা ও আস সানাতুছ ছানিয়া। বিএ ডিগ্রির সমান মারহালাতুল ফজীলত এবং ¯œাতকোত্তর হচ্ছে মারহালাতুত তাকমীল। তারপরও দুটি শ্রেণি রয়েছে উচ্চুর গবেষণার জন্য। দাওরায়ে হাদিস শিক্ষা লাভের পর বিশেষ কোর্স সম্পন্ন করলে তারা মুফতি উপাধি লাভ করে।ন। উচ্চ মানের কোসর্?গুলোর মধ্যে তাক্লিম ইফতাহ( আইন তত্বে বিশেষজ্ঞ), তাকলিম আদাব( আরবি সাইহত্যে বিশেষজ্ঞ) এবং তাকাসসুল ফিল হাদিস ( হাদিস বিশেষজ্ঞ)। ফজিলত কোর্স সাফল্যেও সাথে উল্টীর্ণ হলে এসব শিক্ষাথীররা “ মাৗলানা” খেতাবে ভ’ষিত হন। এ কোর্স সম্পন্নকারীদেও এক চতুর্থাংশ পিএউচডি সমমানের ১৪টি বিশেষায়িত কোর্স করার সুযোগ লাভ করে। শিক্ষা জীবনের ১৫ ও ১৬তম বছওে মারহালাতুল তাকমিল ডিগ্রি প্রদান করা হয়েছে। এক দাওরায়ে হাদিস ও বলা হয়। ২০০৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ১০ হাজারের অধিক করমী মাদ্রাসা গড়ে উঠেছে। তাকুলে বা দাওরায়ে হাদিস ( ¯œাতকোত্তর) পর্যায়ের প্রায় আড়াইশত এবং মহিলাদেও জন্য স্বতন্ত্র ৫০ টি মাদ্রাসা রয়েছে। ভারতে করমী মাদ্রাসাগুলো মাদ্রাসা শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা রাখলেও বাংলা দেশে এটি সরকার স্বীকৃত শিক্ষায় এষনও পূর্ণঙ্গতা পায়নি। করমী মাদ্রাসা শিক্ষা আইন ২০১৩ সালের অক্টোবর মাসে উঠলেও এটি এষনও আলোর মুখ দেখেনি। করমী মাদ্রাসা সরকারিভাবে স্সীকৃতি না পাওয়ায় অধিক্ংশ ছাত্র করমীর পাশাপশি অধলিয়া মাদ্রাসায়ও লেখাপড়া করতে পারত। দইখল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দাওরায়ে হাদিস করার পাশাপাশি কামিল পাশ করতে পারত। বর্তমানে ৫ম ও ৮ম শ্রেণিতে সার্টিফিকেট পরীক্ষা চালু করার কারণে তা কঠিন হয়ে গেছে। করমী মাদ্রাসা শিক্ষাকে তাদেও সাথে পরামর্শ কওে সরকারী উদ্যোগে ঢেলে সাজাতে হবে। লখেকঃমমনিুল ইসলাম মোল্লা,সাংবাদকি,গবষেক ও কলামস্টি

No comments