মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমাবেশ-বিশ্ব ইজতেমা
মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম -বিশ্ব ইজতেমা
ঢ়মোঃ মমিনুল ইসলাম মোল্লা
প্রতি বছরের মতো এবারও গাজীপুরে সোনাভানের কহর দরিয়া খ্যাত টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে আগামী ৯ জানুয়ারি থেকে. শুরু হচ্ছে বিশ্ব ইস্তেমা। মুসলিদের সুবিধার্থে ৯ থেকে ১১ জানুয়ারি এবং ১৬ থেকে ১৮ জানুয়ারি দুই পর্বে ইস্তেমা অনুষ্ঠিত হবে। তাবলিগ জামাতের উদ্যোগে তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র বাংলাদেশে হচ্ছে এ সম্মেলন । রবিবার আখেরি মোনাজাত শেষে তাদের অনেকেই জামাতবন্দি হয়ে দেশ-বিদেশে তাবলীগের দাওয়াতে বেরিয়ে পড়বেন এবং যারা জামাতবন্দি হয়ে চিলায় না যাবেন তারা স্ব স্ব বাড়িঘরের উদ্দেশে রওয়ানা দিবেন।বয়ানে তাবলীগের ছয় উসুলসহ আলাহর হুকুম পালন ও আলাহ এবং রাসুলের নৈকট্য লাভের পথ বাতলাবেন। তবে এর কোন নির্দিষ্ট দিন নেই। প্রতি বছর ইজতেমায় পরবর্তী বছরের তারিখ জানিয়ে দেয়া হয়। এক বছর পর নির্দিষ্ট দিনে আবারো লক্ষ লক্ষ লোক নির্দিষ্ট ময়দানে জামায়েত হয়। এর জন্য প্রচারের কোন প্রয়োজন হয় না। কি আশ্চর্য ! কোন পোষ্টারিং নেই, নেই কোন বিজ্ঞাপন, দেয়াল লিখন কিংবা মাইকিং করারতো প্রশ্নই উঠেনা।
১৯৬৫ সালে ঢাকার কাকরাইল মসজিদে প্রথম ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। তারপর থেকে ধীরে ধীরে এর প্রসার ঘটে। ১৯৬৬ সালে শিল্প নগরী টঙ্গীতে তা স্থানান্তরিত করা হয়। তাবলিগের লোকেরা বিশ্বইজতেমার আয়োজন করে। এই তাবলীগ অর্থ কোন কিছু ঁেপৗছিয়ে দেয়া বা প্রচার করা। দ্বীনের তাবলীগ অর্থ দ্বীনের কথা, ইসলামের বাণী মানুষের কাছে পৌঁছিয়ে দেয়া বা দ্বীন প্রচার করা। মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন মহানবী (সাঃ) কে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, হে রাসূল ! তোমার রবের পক্ষ হতে তোমার প্রতি যা কিছু নাযিল করা হয়েছে তা লোকদের পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দাও। (মায়দা ঃ ৬৭) বোখারী শরীফের মধ্যে আছে মহানবী (সঃ) বলেছেন, আমার পক্ষ হতে লোকদের কাছে পৌছতে থাক, প্রচার কর একটি আয়াত হলেও। হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর ইন্তেকালের পর পবিত্র কোরআন ও হাদিসের বাণী পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব বর্তায় খোলফায়ে রাশেদীন, সাহাবী এবং পরবর্তীতে আলেম-ওলামাদের উপর।
ইসলামের মর্মবাণী পৌঁছে দেয়ার জন্য তাবলীগের গুরুত্ব অপরিসীম। তাবলীগের ইতিহাস অনেক পুরনো। তাবলীগের সাথে সংশ্øিষ্ট ব্যক্তিদের আলোচনা ও লেখালেখি থেকে জানা যায়, বাংলাদেশে ইজতেমা অনুষ্ঠানের প্রায় ৩/৪ যুগ পূর্বে ভারতের ছাহরামপুর এলাকা থেকে এ মহতী কাজের শুরু হয়। হযরত ইলিয়াছ (রঃ) এ কাজ চালু করেন। তিনি পবিত্র কোরআন এবং মহানবী (সঃ) ও তার প্রত্যক্ষ সহচর দ্বীন ইসলামে মুসলমানদের পরিচালিত হওয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করেন। তিনি এ কাজকে তাবলীগ না বলে ’ইছালে নফছ’ বা আতœশুদ্ধির প্রাথমিক কাজ বলে অভিহিত করেন। তার রচিত গ্রন্থ নতুন মতবাদ সৃষ্টি করেনি। বরং ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ ও শেষ নবীর কর্মময় জীবনের হুবহু বাস্তবায়ন মুসলমানদের সার্বিক কাজে প্রতিফলিত করাই ছিল তাঁর প্রধান উদ্দেশ্য। প্রথমে তিনি টেস্ট কেইছ হিসেবে ভারতের ছাহরাপুর, মেওয়াত ইত্যাদি এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তার তাবলীগের কাজ চালু করেন। ঐ সব অঞ্চলের অধিকাংশ লোকই অনৈসলামিক কাজে লিপ্ত ছিল। আল্লাহর হুকুম ও নবীর তরীকা সম্পর্কে বলতে গেলে তাদের কোন ধারণাই ছিল না। ফলে মুসলমান হয়েও তারা বিভিন্ন পূজা-পার্বনে অংশ নিত। পবিত্র কোরআন শরীফে বলা হয়েছে, তুমি তোমার রবের দিকে দাওয়াত দাও।’’ (হজ্ব, ৬৭ আয়াত) তাই তাবলীগের ভাইয়েরা অন্যান্য মুসলমানকে ইসলামের দিকে আহবান করে।
বছরে একবার ইজতেমা করার মধ্যেই তাদের কাজে শেষ হয় না। মূলতঃ এখন থেকেই বছরের কার্যক্রম শুরু হয়। বিশ্বের ৬০/৬৫টি মুসলিম দেশের লোক এখান থেকেই দাওয়াতী কাজে বেরিয়ে যায়। দাওয়াতী কাজে কমপক্ষে ৩ দিন সময় দিতে হয়। কেউ কেউ আবার ১ চিল্লা (৪০ দিন), ২ চিল্লা কিংবা ৩ চিল্লাও দিয়ে থাকে। এ সময় তারা দেশ/বিদেশের বিভিন্ন মসজিদে অবস্থান করে। দিন-রাত পরিকল্পনা অনুযায়ী ইবাদতে মশগুল থাকে এবং এলাকার সাধারণ মানুষকে আতœশুদ্ধির পথে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানায়। এখনও সেখানেই প্রতি বছর ইজতেমার বিশাল প্যান্ডেল তৈরী করা হয়। আমরা অনেকেই ইজতেমায় অংশগ্রহণ করি। কিন্তু আবার অল্প সময়ের মধ্যেই ইসলামের দৈনিক কাজগুলো পালন থেকে দূরে সরে যাই। এটি মোটেও কাম্য নয়। আমরা যে শিক্ষা গ্রহণ করবো তা অন্যান্যদের মধ্যে পৌঁছে দেব এবং নিজেরা আমলে পরিণত করবো এই হোক বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষ্যে আমাদের অঙ্গীকার।
লেখকঃ মমিনুল ইসলাম মোল্লা ,ক্যাম্পেনার সিডিএলজি, প্রভাষক ও সাংবাদিক , কুমিল্লা
No comments