কুমিল্লার দেবিদ্বারে ঈদ জামাতে মহিলাদের আগ্রহ বাড়ছে
কুমিল্লার দেবিদ্বারে ঈদজামাতে মহিলাদের আগ্রহ বাড়ছে
August 8, 2013
মমিনুল ইসলাম মোল্লা , দু:খের বিষয় হল পবিত্র হাদিসে উল্লেখ থাকা সত্বেও দেখা যায় অনেকে মেয়েদের ঈদের সালাতে অংশ নিতে নিরুৎসাহিত করেন ৷ অনেকে বাধা দেন ৷ আবার কোথাও মহিলাদের জন্য ঈদের সালাতের ব্যবস’া করলে কটাক্ষ করেন। ধর্মীয় ঐতিহ্যের গ্রাম এাহাবাদ।
এখানে আজ থেকে ৭০০ বছর আগে ইসলাম প্রচার হয়েছিল। বর্তমানে এটি আয়তন ও জনসংখ্যায় এলাহাবাদ ইউনিয়নের ১ম দেবিদ্বারের দ্বিতয়ি গ্রাম।বাংলাদেশ পরিরসংখ্যান ব্যুরো ২০১০ এর হিসেব অনুযায়ী-এখানকার জনসংখ্যা ৭৮২৬ জন। এর মধ্যে ১৮২জন হিন্দু বাদে বাকী সবাই মুসলমান। এখানে ২৪টি জামে মসজিদ রয়েছে। কয়েকটি মসজিদে নিয়মিত মহিলারা জুম্মার নামাজ আদায় করেন। দেবিদ্বর থানায় অনেক আগে থেকেই মহিলাদের জামাদেত ঈদের নামাজ পড়ার ব্যবস’া রয়েছে। এবছর এলাহাবাদের ১০ টি ঈদগাহের মধ্যে মহিলাদের জামাতে নামাজের জন্য ৩টি ঈদগাহ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সূত্র জানায়,এলাহাবাদ বাদেও গৌড়সার, বারুর, তুলাগাাঁও, চাঁদপুর, ছোটনা ও খিড়াইকান্দিতেসহ বিভিন্ন যায়গায় আহলে হাদিস এর অনুসারীরা মহিলাদের জন্য জামাতে নামাজ পড়ার ব্যবস’া করেছে। এগুলোতে পুরুষ ঈমাম ছাড়াও মহিলাদের সাথে আসা তাদেও স্বামী, ভাই, বা ছেলেদের নিয়ে প্রথম কাতার পুরা করা হয়। তারপর পর্দার ব্যবস’া রেখে মহিলাদের জন্য চারদিক পর্দা ঘেরা অবস’ায় বিশেষ ব্যবস’া রাখা হয়।এমনই একটি জামাতের ঈমাম মাওলানা জহিরুল ইসলাম জানান, ‘উম্মে আতিয়া রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : আমাদেরকে রাসূলুল্লা সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করেছেন আমরা যেন মহিলাদেরকে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাতে সালাতের জন্য বের করে দেই ; পরিণত বয়স্কা, ঋতুবতী ও গৃহবাসিনী সহ সকলকেই৷ কিন’ ঋতুবতী মেয়েরা (ঈদগাহে উপসি’ত হয়ে) সালাত আদায় থেকে বিরত থাকবে তবে কল্যাণ ও মুসলিমদের দোয়া প্রত্যক্ষ করতে অংশ নিবে৷ তিনি জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল ! আমাদের মাঝে কারো কারো ওড়না নেই৷ (যা পরিধান করে আমরা ঈদের সালাতে যেতে পারে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : সে তার অন্য বোন থেকে ওড়না নিয়ে পরিধান করবে৷’ (বর্ণনায় : মুসলিম)।,এলাহাবাদে ও ৩ যায়গায় মহিলাদেও জামাতে নামাজ পড়ার ব্যবস’া রয়েছে।এগুলো হচ্ছেঃ ১.কামাল ডাক্তারের বাড়িঃ এলাহাবাদ বাজারের উত্তর দিকে কামাল ডাক্তরের বাড়ির পাশ্ববর্তী ময়দানে এ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এ জামাতের উদ্যেক্তা বিশিষ্ট হোমিও চিৎিসক ডাঃ কামাল হোসেন বলেন-২০০৮ সাল থেকে এ জামাত চলছে, ধীরে ধীরে মহিলাদের উপসি’তি বাড়ছে। এখানে জামাত হবে সকাল ৯ টায়, ঈমামতি করবেন মোঃ মোনতাছির মোল্লা। ২. মাদ্রাসা ময়দানঃ উত্তর পাড়ায় অবসি’ত। এলাহাবাদ ডিজেএস দাখিল মাদ্রাসা ময়দানে এটি অনুষ্ঠিত হয়। এখানে নামাজ পড়ান ক্বারী আব্দুল হাই এর ছেলে মোঃ আব্দুল্লাহ। ৩. ছনুদ্দীর বাড়ির মসজিদঃ এটি এলাহাবাদ -সীমারকান্দা রোডেঅবসি’ত। মসজিদের পাশের খালি যায়গায় মহিলাদের নামাজের ব্যবস’া রয়েছে। এখানে ঈমামতি করেন মাওলানা ঈব্রাহীম। এবং সার্বিক ত্তাবধানে রয়েছেন ডাক্তার আবু তাহের। মসজিদে নারীদের জামাতে নামাজ পড়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে ইসলামী ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম মসজিদের মহিলা শাখার কর্মকর্তা শরাবান তহুরা বলেন, ‘মসজিদে নারীদের জামাতে নামাজ পড়ার ব্যাপারে ইসলামে কোনো নিষেধ নেই। রাসুল (সা.)-এর সময় থেকে নারীরা জামাতে নামাজ পড়ে আসছেন। যেসব নারী বায়তুল মোকারম মসজিদে নামাজ পড়তে আসেন তাঁদের বাধা দেওয়া হয় না। কারণ আল্লাহর ঘরে আসতে বাধা দেওয়া ঠিক নয়।বুখারী শরিফ হাদিসের ৯১৮, ৯১৯, ৯২৪ নম্বর হাদিসে মেয়েদের জামাতে অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।বাড়ির পুরুষরা ঈদের নামাজ পড়তে যায়। আর মেয়েরা তাদের দরজা থেকে বিদায় জানায়থএটা দেখেই আমরা অভ্যস্ত। কিন’ এখন বেশ কিছু পরিবারে শুধু বাসার পুরষরা নয়, নারীরাও তাদের সঙ্গে ঈদের জামাতে অংশ নেয়। ধীরে ধীরে চিত্রটা বদলাতে শুরু করেছে।এ নিয়ে যাদেও মধ্যে মতভেদ আছে আশা করি তারা সহিহ হাদিস অনুসরন কওে মহিলাদের জামাতে নামাজের উদ্যোগ নিবেন।আমিন।


No comments