সোনাকান্দা দরবার
https://bengaltimes.us/%E0%A6%B8%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%BE-%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%90%E0%A6%A4/
সোনাকান্দা : কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী দরবার শরীফ

- আপডেট টাইম Saturday, January 24, 2026
- 111 দেখা হয়েছে


মমিনুল ইসলাম মোল্লা, সাংবাদিক কলামিস্ট ও ধর্মীয় আলোচক, কুমিল্লা।।
সোনাকান্দা দারুল হুদা দরবার শরীফ: আধ্যাত্মিক জাগরণের এক উজ্জ্বল বাতিঘর বাংলার ইসলামী ইতিহাসে যেসব আধ্যাত্মিক মারকাজ ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, সোনাকান্দা দারুল হুদা দরবার শরীফ তাদের অন্যতম। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার সোনাকান্দা গ্রামে অবস্থিত এই দরবার শরীফ শুধু একটি খানকাহ নয়, বরং এটি ইসলামী শরীয়ত ও তরিকতের সমন্বিত শিক্ষা বিস্তারের এক ঐতিহাসিক কেন্দ্র।
এই মহান মারকাজের প্রতিষ্ঠাতা হাফেজ মাওলানা আব্দুর রহমান হানাফী (রাঃ) ছিলেন একজন উচ্চমার্গের আলেম, কামিল পীর ও সমাজ সংস্কারক। শৈশবকাল থেকেই তাঁর চরিত্রে তাকওয়া ও পরহেজগারির দীপ্তি ফুটে ওঠে। দ্বীনের খেদমতের উদ্দেশ্যে তিনি পবিত্র ভূমি আরব ও আজমে দীর্ঘ চার বছর সফর করেন।
এ সময় তিনি পূর্ণ কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেন, তিনবার হজ্জ আদায় করেন এবং অসংখ্য নবী-রাসূল ও আউলিয়ায়ে কেরামের মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক ফয়েজ অর্জন করেন।
আরব সফর শেষে নিজ এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক অবস্থা দেখে তিনি গভীরভাবে ব্যথিত হন। কুসংস্কার, অপসংস্কৃতি ও ধর্মীয় অনুশাসনহীনতার অন্ধকারে নিমজ্জিত মানুষকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনতেই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন সোনাকান্দা দারুল হুদা দরবার শরীফ।
এই দরবারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে মসজিদ, মাদ্রাসা, খানকাহ, কুতুবখানা, লিল্লাহ বোর্ডিং ও মুসাফিরখানা। ১৯৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত দারুল হুদা মাদ্রাসা পরবর্তীতে দাখিল, আলিম, ফাযিল ও কামিল স্তরে উন্নীত হয় এবং তাফসীর, ফিকহ ও আরবি সাহিত্যে উচ্চতর শিক্ষা প্রদান শুরু করে।
হাফেজ আব্দুর রহমান হানাফী (রাঃ) প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে যুক্ত না হলেও ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, পাকিস্তান আন্দোলন ও ইসলামি পুনর্জাগরণে তাঁর প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী। তিনি বিশ্বাস করতেন—আধ্যাত্মিক পরিশুদ্ধি ছাড়া টেকসই ইসলামী সমাজ গঠন সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যেই তিনি “আনজুমানে মঈনুল মুসলেমিন” নামে অরাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
তাঁর ইন্তেকালের পর দরবার ও মাদ্রাসার দায়িত্ব গ্রহণ করেন তাঁর সুযোগ্য সন্তান ও খলিফা পীর আবুবকর মুহাম্মদ শামছুল হুদা (রাঃ)। পরবর্তীতে বর্তমান গদীনশীন পীর মাওলানা মাহমুদুর রহমানের নেতৃত্বে এই মারকাজ আজও দ্বীনী শিক্ষা, আধ্যাত্মিক সাধনা ও সমাজসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। প্রতিবছর আয়োজিত ঈসালে সওয়াব ও বিভিন্ন মাহফিল এই দরবারকে পরিণত করে ধর্মপ্রাণ মানুষের মিলনকেন্দ্রে।
সোনাকান্দা দারুল হুদা দরবার শরীফ আজ শুধু একটি স্থাপনা নয়—এটি এক আধ্যাত্মিক আন্দোলনের নাম, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে মানুষকে আল্লাহমুখী জীবন ও ইসলামী আদর্শের পথে আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছে।
লেখক পরিচিতি -মমিনুল ইসলাম মোল্লা সাংবাদিক কলামিস্ট ও ধর্মীয় আলোচক কুমিল্লা।।https://m.dailyinqilab.com/article/192114/%E0%A6%B8%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%BE-%E0%A6%A6%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B6%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%AB%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%89%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%B2-%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A4
সোনাকান্দা দরবার শরীফের উজ্জ্বল নক্ষত্র অস্তমিত
মো. ছলিম উল্লাহ খাঁন সোনাকান্দা সংবাদদাতা : | প্রকাশের সময় : ১১ মার্চ, ২০১৯, ১২:০৪ এএম
কুমিল্লা সোনাকান্দা দারুল হুদা দরবার শরীফ ও সোনাকান্দা দারুল হুদা বহুমূখী কামিল মাদরাসার ভাগ্যাকাশ থেকে উজ্জল নক্ষত্র অস্তমিত হয়ে গেল। কুমিল্লা সোনাকান্দা দারুল হুদা দরবার শরীফ ও সোনাকান্দা দারুল হুদা বহুমূখী কামিল মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পীর আলহাজ হাফেজ মাওলানা আব্দুর রহমান হানাফী (রহ.) এর ৫ ছেলে ও ৫ মেয়ের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ সন্তান ছিলেন শাহছূফী আলহাজ মাওলানা আব্দুল কদ্দুস ফারুকী ওয়াল মক্কী। তিনি গত ৭ মার্চ তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। ভক্তরা তাকে দ্রুত রাজধানীর গুলশানে ইউনাইটেট হাসপাতালে ভর্তি করেন। ৪দিন চিকিৎসা শেষে গতকাল বিকালে তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
শাহছুফী আলহাজ মাওলানা আব্দুল কদ্দুস ফারুকী ওয়াল মক্কী (রহ.) ১৯৪৫ সালে কুমিল্লা সোনাকান্দা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। বাবার প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী সোনাকান্দা দারুল হুদা কামিল মাদরাসা থেকে দাখিল ও আলিম পাশ করে ঢাকা আলিয়া মাদরাসায় ভর্তি হন। সেখান থেকে কৃতিত্বের সাথে কামিল পাশ করেন। ১৯৭৭ সালে তিনি পবিত্র মক্কা শরীফ গমন করেন। ১৯৮৬সালে বাংলাদেশে এসে সৈয়দ আরশাদ আলী খানের কন্যা সৈয়দা তাসনীম খানমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। পুনরায় পবিত্র মক্কা শরীফে সস্ত্রীক গমন করেন এবং স্থায়ী ভাবে সেখানে বসবাস করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ৯ কন্যা ও ১ পুত্র সন্তানের জনক। তার ২ জন কন্যা ছারছীনা দরবার শরীফের বড় শাহ সাহেব ও ছোট শাহ সাহেবের সহধর্মিনী।


No comments