গোমতী নদীর পাড় এবং চর হতে পারে দর্শনীয় পর্যটন কেন্দ্র
কুমিল্লা নগরীসংলগ্ন গোমতী নদীর পাড় এবং চর হতে পারে দর্শনীয় পর্যটন কেন্দ্র। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী কটকবাজার দিয়ে নদীটি ভারত থেকে কুমিল্লা জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মেঘনা নদীর সঙ্গে মিলেছে। গোমতী নদীর ৮৩ কিলোমিটারের মূল অংশ কুমিল্লা জেলায়। নদীর দুই তীরে গড়ে ওঠা বিভিন্ন ফল ও কাঠ গাছের বাগান আর বিশাল চরে কৃষকদের সবুজ সবজির খেত দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। সদর উপজেলার টিক্কারচর এলাকায় নদীর ওপর নির্মাণ করা ব্রিজটি এখন প্রতিদিন বিকালে দর্শনার্থীদের দখলে চলে যায়। সরকারি ছুটির দিনগুলোয় দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের সঙ্গে ভিড় জমান স্থানীয়রাও। টিক্কারচর ছাড়াও ছুটির দিনগুলোয় গোমতী নদীর পালপাড়া, বানাশুয়া, রত্নবতী, চাঁনপুর এলাকা দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে।
সম্প্রতি নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন স্থানে ব্যক্তিমালিকানায় গড়ে তোলা হচ্ছে ছোট ছোট কটেজ। এসব কটেজে কফি, চাসহ হালকা খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। কটেজে বাঁশের বেঞ্চিতে বসে কফি কিংবা চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে উপভোগ করা যায় নদীর সৌন্দর্য। শেষ বিকালে দর্শনার্থীদের ভিড়ে জমজমাট হয়ে ওঠে কটেজগুলো। নদীর সদর উপজেলার অংশের বানাশুয়া রেলব্রিজের পূর্বপাশে প্রায় এক একর জমির ওপর বাঁশ-বেত দিয়ে একটি কটেজের কাজ নির্মাণাধীন। রেলব্রিজের নিচে বড় বড় পাথর রয়েছে, সেখানে স্রোত বাধা পেয়ে ঘূর্ণিপাক তৈরি হয়ে অপূর্ব সৌন্দর্যের সৃষ্টি করে। অনেকেই নদীর পানিতে আধো ডুবে থাকা পাথরগুলোতে বসে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের আনন্দ পায়। মুঠোফোনের ক্যামেরায় বন্দী করে নিজেদের ছবি।
শহরের পাশ ঘেঁষে প্রবাহিত হওয়ার কারণে গোমতীর তীরে নগরজীবনের ব্যস্ততায় ক্লান্ত শরীর ও মনকে সতেজ করতে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে বেড়াতে যাওয়া দর্শনার্থীর সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, ভিক্টোরিয়া কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ভিড় জমায় গোমতী নদীর আলেখারচরের অংশটিতে।
একটি কফি শপের মালিক স্থানীয় শিমাইলখাড়া গ্রামের মো. শাহজাহান জানান, বর্তমান তরুণ-তরুণীদের রুচি ও অভ্যাসের ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। আমরা তরুণ-তরুণীদের পছন্দের খাবার পরিবেশন করি। এখানে বসে গোমতী নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করার ব্যবস্থা রয়েছে।
কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, গোমতী নদীর দুই পাড়ের প্রাকৃতিক দৃশ্য অনেক সুন্দর। নগরীসংলগ্ন নদীর পাড়ে বিকালে দর্শনার্থীদের ভিড় জমে বলে শুনেছি। এখানে অবসর সময় কাটানো যেতে পারে। বেসরকারিভাবে কেউ এখানে পর্যটন কেন্দ্র করতে চাইলে জেলা প্রশাসন নিয়মমাফিক তাদের সহযোগিতা দেবে।

No comments